NOBIDEP


নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (NOBIDEP)

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কালে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে। শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে, বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালে মধ্যে জাতীয় দারিদ্র হার ১৫%এ নামিয়ে আনা এবং বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করার লক্ষ্য গ্রহণ করেছে। তবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কাছে পৌছেনি, এখনও শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে ব্যাপক দারিদ্র বৈষম্যবিরাজমান।বাংলাদেশ সরকার ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আঞ্চলিক বৈষম্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পণায়, এলাকা ভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা পদ্ধতি এবং পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী করণের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নগর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান দারিদ্র বৈষম্য দুর করার চাবিকাঠি হচ্ছে দারিদ্র হ্রাসকরণ। দারিদ্র হ্রাসকরণের পূর্বশর্ত হলো গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করা এবং গ্রামাঞ্চলেজনসেবার মান বৃদ্ধি করা।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে, গ্রামীণ উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রত্যন্ত শহরসমূহের উন্নয়ন, এবং শহর-গ্রামের আন্ত:সংযোগ শক্তিশালীকরণ, বিশেষত কেন্দ্রবিন্দু সমূহের মধ্যকার এবং এদের পার্শ্ববর্তি এলাকাসমূহের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ স্থাপনের জন্য জরুরী সমনি¦ত কৌশল। নগর-গ্রাম সংযোগ শক্তিশালী করার ফলে, গ্রাম ও শহর উভয় অংশের মানুষই উন্নত পরিবহন অবকাঠামো, সম্প্রসারিত বাজার, উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সহজপ্রাপ্যতা এবং বিস্তৃত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ব্যাপক সুবিধা লাভ করবে। গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র হ্রাসকরণের ফলে স্থানীয় জনগনের জন্য পণ্য, পরিসেবার পরিমাণ ও গুনগতমান উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এটা শুধুমাত্র শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্যানিটেশনসহ মৌলিক পরিসেবাই নয়, বরংমৌলিক অবকাঠামো যেমন সড়ক, ব্রীজ ও বাজার ইত্যাদিও অন্তর্ভূক্ত করবে। মৌলিক অবকাঠামোর এ উন্নয়ন স্থানীয় অথনীতিসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ পরিসেবা খাতে অভিগম্যতা বৃদ্ধি করবে।
বিগত প্রায় তিনদশক ধরে বাংলাদেশের নগরায়নের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের ৪ কোটি ৩০ লক্ষ লোক নগর এলাকায় বসবাস করে, যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ২৮ ভাগ। নগর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৮% যা দেশের মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের (১.১%) দ্বিগুনের চেয়েও বেশি। বর্তমান জনসংখ্যা ও নগরায়ন বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালে নগর এলাকার জনসংখ্যা হবে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লক্ষ, যা মোট জনসংখ্যার ৪২%। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ন পৌরসভাসমূহের বসবাসকারী জনগণের ব্যপক অবকাঠামোসহ নাগরিক সেবার চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। পৌরসভা সমূহের জন্য অনুমোদিত মহাপরিকল্পনা বা মাষ্টারপ্ল্যান ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা না থাকায় চলমান কার্যক্রম অপরিকল্পিত ভাবে সম্পাদিত হচ্ছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নপূর্বক পরিকল্পিত ভাবে অবকাঠামো উন্নয়নসহ পৌরসভার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমবাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পৌরসভা পরিচালন ব্যবস্থায় জনগণের সম্পৃক্ততা কম থাকায় এবং জবাবদিহিতার অভাবসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে পৌরসভা পরিচালন ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে দূর্বল। পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণও খুবই কম। তাছাড়া পৌরসভার রাজস্ব ও অন্যান্য আয়ের পরিমান এতটাই কম যে তা দিয়ে রাজস্ব ব্যয় মিটানোই কষ্টকর। ফলে রাজস্ব আয় দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নসহ অন্যান্য পৌরসেবা প্রদান করা সম্ভব নয় বিধায় পৌরসভাসমূহকে সবসময়েই সরকারের বরাদ্দের উপরেই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সরকরের উন্নয়ন বরাদ্দও পৌরসভা উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত নয়। পৌরসভা পরিচালনায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল কম এবং অনেক পৌরসভাতেই প্রয়োজনীয় জনবলেরও খুব অভাব। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্পের আওতায় নগর পরিচালন ও উন্নতিকরণ কর্মসূচির (টএওঅচ) মাধ্যমে পরিচালন ব্যবস্থাপনা উন্নীত করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণসহ গ্রাম ও শহরের সমন্বিত উন্নয়নের কথা চিন্তা করে, এলজিইডি- প্রথম বারের মতো একই প্রকল্পে পল্লী উন্নয়নের পাশাপাশি পৌরসভা উন্নয়নে জাতীয় নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে, নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (নবিদেপ)- এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৮টি পৌরসভাসহ ১৪টি জেলায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র হ্রাসকরণের মাধ্যমে সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে। নবিদেপ প্রকল্পটি সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় চলমান আছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য: বাংলাদেশেরউত্তরাঞ্চলের ১৪ টি জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনও দারিদ্র হ্রাস করা।

উদ্দেশ্য:

*পল্লীঅবকাঠামো ও পরিসেবার সুযোগ সৃষ্টিএবংজনগণের অভিগম্যতাবৃদ্ধি।

*নগর অবকাঠামো ও পরিসেবার সুযোগ সৃষ্টি এবংজনগণের অভিগম্যতা বৃদ্ধি।

*প্রকল্পভুক্ত পৌরসভার নগর পরিচালন পদ্ধতির উন্নতিকরণ।


এক নজরে নবিদেপ প্রকল্প

প্রকল্প মেয়াদকাল :  মার্চ ২০১৩ থেকে জুন ২০১৯

প্রকল্প এলাকা :  বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৮টি পৌরসভাসহ ১৪ টি জেলা

প্রকল্প অর্থায়ন :

  • ২৭০,৫৯৪ লক্ষ টাকা
  • ২১২,৭৫৭ লক্ষ টাকা (জাইকা ঋণ)
  • ৫৭, ৮৩৭ লক্ষ টাকা (বাংলাদেশ সরকার)


    বাস্তবায়নকারী সংস্থা :

  • স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর
  • স্থানীয় সরকার বিভাগ
  • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়


প্রকল্পের লক্ষ্য :  বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ১৪ টি প্রকল্পভূক্ত জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র হ্রাস

প্রকল্পের উদ্দেশ্য :

*পল্লীঅবকাঠামো ও পরিসেবার সুযোগ সৃষ্টিএবংজনগণের অভিগম্যতাবৃদ্ধি।

*নগর অবকাঠামো ও পরিসেবার সুযোগ সৃষ্টি এবংজনগণের অভিগম্যতা বৃদ্ধি।

*প্রকল্পভুক্ত পৌরসভার নগর পরিচালন পদ্ধতির উন্নতিকরণ।

Copyright © 2018 Sundarganj Pourasava. All rights reserved.